ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চারাতলা বাজারে একটি ব্যতিক্রমী চায়ের দোকান গড়ে উঠেছে, যেখানে মালিক বা নির্ধারিত বিক্রেতা নেই। এই দোকানে আসা ক্রেতারাই নিজেদের জন্য চা তৈরি করেন এবং প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে নিয়ে যান।
দোকানের নাম 'সততা দোকান', যা স্থানীয়দের কাছে 'ভরসার দোকান' হিসেবেও পরিচিত। ৬৫ বছর বয়সী হারুন অর রশিদ নামের একজন ক্রেতা দোকানে এসে নিজের জন্য চা তৈরি করছিলেন, যা এখানে একটি সাধারণ দৃশ্য। তবে তিনি দোকানের মালিক নন, বরং কেবল চা পান করতে এসেছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোকানে আসা লোকজন নিজেদের ইচ্ছেমতো কেক-বিস্কুট নিয়ে খাচ্ছেন এবং চা বানিয়ে পান করছেন। যাওয়ার সময় তারা হিসাব করে টাকা রেখে যাচ্ছেন। টাকা না থাকলে পরে এসে টাকা দিয়ে যান। এই দোকানে বিশ্বাসের ভিত্তিতে ব্যবসা চলছে।
দোকানের মালিক সমসের আলী জানান, তিনি এই দোকানটি চালু করেছেন কারণ আগে অন্যের দোকানে বসে চা খেয়ে তার প্রতিদিন ২০০ টাকার বেশি খরচ হয়ে যেত। তিনি বলেন, "আমি এখানে সবসময় থাকতে পারি না, তাই আমি এটি মানুষের বিশ্বাসের ওপর ছেড়ে দিয়েছি।" প্রতিদিন তার আয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে থাকে।
স্থানীয় ক্রেতারা জানান, তারা নিজেদের জন্য চা বানিয়ে রাখেন এবং দোকানে টাকা রেখে চলে যান। আফাঙ্গীর হোসেন বলেন, "এমন ঘটনা সাধারণত ঘটে না। দোকানের মালিক বিশ্বাস করে দোকান রেখে চলে যান।" এলাকার মানুষ এই সততা দেখে মুগ্ধ।